

সরলাদেবী চৌধুরানী
সরলাদেবী চৌধুরানী ছিলেন লেখিকা, সমাজসংস্কারক ও স্বাধীনতা আন্দোলনের সক্রিয় ব্যক্তিত্ব।
জীবনী
১৮৭২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সরলাদেবী চৌধুরানী। তাঁর পিতা ছিলেন জনকীনাথ ঘোষাল এবং মাতা স্বর্ণকুমারী দেবী। তিনি ছিলেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাতনি এবং কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাগ্নি। সাহিত্য, সংগীত ও দেশপ্রেমের পরিবেশে বেড়ে ওঠার ফলে অল্প বয়স থেকেই তিনি সমাজ ও দেশের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করেন।
বেথুন কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি সাহিত্যচর্চা, সম্পাদনা এবং সমাজসেবায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। তিনি দীর্ঘদিন 'ভারতী' পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন এবং বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
১৯১০ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ভারত স্ত্রী মহামণ্ডল, যা ভারতের প্রথম সর্বভারতীয় নারী সংগঠন হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি নারীশিক্ষা, আত্মনির্ভরতা এবং সামাজিক উন্নয়নের জন্য দেশব্যাপী কাজ করেন। পাশাপাশি স্বদেশি আন্দোলন, দেশীয় শিল্পের প্রসার এবং জাতীয়তাবাদী চেতনা গড়ে তুলতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
সরলাদেবী ছিলেন একজন দক্ষ লেখক, সংগীতজ্ঞ ও দেশপ্রেমিক। তাঁর আত্মজীবনী 'জীবনের ঝরাপাতা' বাংলা সাহিত্যের একটি মূল্যবান দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়। সাহিত্য, শিক্ষা, নারীজাগরণ এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য তিনি আজও ইতিহাসে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণীয়।
